মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইল–এর মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উত্তর কোরিয়া। পরিস্থিতি যখন ক্রমেই জটিল হচ্ছে, তখন দেশটি শক্তিশালী একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন করেছে।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি গণমাধ্যমের বরাতে Al Jazeera ও Reuters জানিয়েছে, দেশের পশ্চিমাঞ্চলের নাম্পো নৌঘাঁটিতে নির্মিত নতুন ডেস্ট্রয়ার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পরীক্ষা চালানো হয়। এই কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করেন দেশটির নেতা কিম জং উন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষাটি ছিল জাহাজটির সামরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় পাঁচ হাজার টন ধারণক্ষমতার এই ডেস্ট্রয়ারটি উত্তর কোরিয়ার নতুন ‘চোহন’ শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ সিরিজের অন্তর্ভুক্ত। আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে কমিশন দেওয়ার আগেই এর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে।
পরীক্ষা শেষে কিম জং উন জাহাজটিকে দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষার নতুন প্রতীক হিসেবে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের নির্দেশও দেন তিনি। নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষমতা অর্জনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
দুই দিনের সফরে নাম্পো নৌঘাঁটি পরিদর্শনের সময় জাহাজটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করেন কিম জং উন। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে আসছে।
এর আগে দেশটির ক্ষমতাসীন Workers' Party of Korea–এর কংগ্রেসে আবারও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নির্বাচিত হন কিম জং উন। এর ফলে প্রায় দেড় দশক ধরে চলা তার নেতৃত্ব আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। একই সময়ে পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন একাধিক রকেট লঞ্চারও উন্মোচন করা হয়, যেগুলোকে তিনি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার সময় উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কৌশলগত বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Post a Comment