আন্তর্জাতিক জলসীমার উত্তাল ঢেউয়ে গত কয়েক দশকে এমন নাটকীয় আর রক্তক্ষয়ী দৃশ্য খুব কমই দেখা গেছে। সাগরে ফেরার পথে মার্কিন টরপেডোর আঘাতে সলিলসমাধি ঘটেছে ইরানের অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’র। তবে একই পরিণতি হতে পারত পাশে থাকা অপর জাহাজ ‘বুশেহের’-এরও। ঠিক সেই মুহূর্তেই ভূ-রাজনীতির সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হলো শ্রীলঙ্কা।
গত মাসেই ভারতের আতিথেয়তায় দ্বিপাক্ষিক মহড়ায় অংশ নিয়েছিল ইরানের এই দুই যুদ্ধজাহাজ। তখনো দূর পারস্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা দেখা দেয়নি। দুই সপ্তাহের সফল মহড়া শেষে যখন ডেনা ও বুশেহের দেশের পথে রওনা হয়, তখনই বিপত্তি বাঁধে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সমুদ্রপথেও।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মার্কিন টরপেডোর অতর্কিত হামলায় সাগরে তলিয়ে যায় ‘ডেনা’। এই হামলায় প্রাণ হারান জাহাজটিতে থাকা ৮৭ জন ইরানি নাবিক।
ডেনা ডুবে যাওয়ার পর ধ্বংসস্তূপের মাঝে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ছিলেন বুশেহের জাহাজের ২০৮ জন নাবিক। একদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার হুমকি, অন্যদিকে ডুবন্ত সহযোদ্ধাদের হাহাকার। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সাহসিকতার পরিচয় দেয় কলম্বো। কোনো পক্ষের রক্তচক্ষু তোয়াক্কা না করে দ্রুত উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠায় শ্রীলঙ্কা প্রশাসন।

Post a Comment