রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের মুহূর্তে স্বস্তি ফিরে আসার কথা থাকলেও অনেকেই ঠিক তখনই মাথাব্যথার সমস্যায় ভোগেন। কপাল ভারী লাগা, মাথার দুপাশে চাপ অনুভব করা বা চোখের ওপর টানটান ব্যথা—এগুলো বেশ সাধারণ উপসর্গ।


বিশেষজ্ঞদের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘ফাস্টিং হেডেক’ বা উপবাসজনিত মাথাব্যথা। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়–এর আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন জানান, এই ধরনের ব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কপাল বা মাথার দুই পাশে অনুভূত হয়। খাবার গ্রহণের পর কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে এটি কমে যায়।



কেন হয় ইফতারের পর মাথাব্যথা?

১. পানিশূন্যতা

সারাদিন না খেয়ে-না পান করে থাকায় শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। এতে রক্তনালীর সংকোচন ঘটে এবং মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।


২. ক্যাফেইন থেকে বিরতি

যারা নিয়মিত চা বা কফি পান করেন, তারা হঠাৎ ক্যাফেইন বন্ধ করলে ‘উইথড্রয়াল’ জনিত মাথাব্যথায় আক্রান্ত হতে পারেন।


৩. রক্তে শর্করার ঘাটতি

দীর্ঘ সময় উপোস থাকার কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, যা মস্তিষ্কে ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। মাইগ্রেইনের রোগীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে।

 


কখন সতর্ক হবেন?

চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণ উপবাসজনিত মাথাব্যথা খুব তীব্র হয় না। তবে যদি—

🔹 ব্যথা অসহনীয় হয়ে ওঠে

🔹 ঘাড় শক্ত হয়ে যায়

🔹 শরীরের কোনো অংশ অবশ লাগে

🔹 বমি, জ্বর বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়

তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


প্রতিরোধের উপায়

পর্যাপ্ত পানি পান

ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করতে হবে।


ক্যাফেইন ধীরে কমানো

রমজানের আগে থেকেই চা বা কফির পরিমাণ কমালে মাথাব্যথার ঝুঁকি কমে।

সুষম সেহরি ও ইফতার

সেহরিতে প্রোটিন, জটিল শর্করা ও শাকসবজি রাখা উচিত। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা, প্রয়োজনে ছোট সময়ের বিশ্রাম নেওয়া এবং মানসিক চাপ কমানো মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

রমজানে ইফতারের পর মাথাব্যথা অনেকের কাছেই পরিচিত সমস্যা হলেও সচেতন খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ, ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে এটি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Post a Comment

Previous Post Next Post