বগুড়ার নন্দীগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে কুড়ালের আঘাতে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন স্বামী। এমন অভিযোগে তায়েজ উদ্দিনকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশো লয়দাপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত মোর্শেদা বেগমের (৪২) মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত মোর্শেদা তালগাছি গ্রামের মকু মিয়ার মেয়ে। আটক তায়েজ উদ্দিন বাঁশো গ্রামের মৃত কছির সরদারের ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কুড়ালও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল। শনিবার হঠাৎ বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তায়েজ উদ্দিন কুড়াল দিয়ে স্ত্রী মোর্শেদার মাথায় আঘাত করেন। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা ছোট কন্যার দিকেও তিনি হামলার চেষ্টা করেন। তবে শিশু কন্যাটি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে প্রাণে বাঁচে। ঘটনার পর তায়েজ উদ্দিন মাটির ঘরের দোতলায় কুড়ালসহ লুকিয়ে ছিলেন।
এলাকাবাসীর দাবি, তায়েজ উদ্দিন কিছুদিন আগে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সুস্থতার পর দুই বছর আগে তাকে বাড়িতে আনা হয়। তুচ্ছ ঘটনায় রাগান্বিত হয়ে ওঠা ছিল তার স্বভাব। ঘটনার আগেরদিনই স্বামী-স্ত্রী মিলে জমিতে সরিষা রোপণের জন্য সার এনেছিলেন।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি মো. ফইম উদ্দিন জানান, ‘হত্যায় ব্যবহৃত কুড়াল জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় তায়েজ উদ্দিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’ তিনি আরও জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Post a Comment