রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। ঘটনায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানার পর এবার তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।City & Local Guides
শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, একই ভবনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিল রামিসার পরিবার। দুই মাস আগে অভিযুক্ত দম্পতি বিপরীত দিকের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া আসে। ঘটনার দিন সকালে শিশুটিকে স্কুলে পাঠাতে খুঁজতে গিয়ে তার মা ফ্ল্যাটের সামনে জুতা দেখতে পান, এরপরই সন্দেহের সূত্রপাত হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শিশুটির মা যখন দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, তখন ভেতরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ সময় অভিযুক্ত নারী স্বপ্না দরজা আটকে রেখে মূল অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান মূল অভিযুক্ত।
পুলিশ আরও জানায়, পরে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে একটি বিকাশ লেনদেন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সূত্রে শিশুটি নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। বিষয়টি গোপন রাখতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পরে আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে মরদেহ বিকৃত করা হয়।
ঘটনার পর ফ্ল্যাট থেকে স্বপ্নাকে আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, পুরো ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলছে।
এর আগে সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Post a Comment